গাজায় আরও অর্ধশতাধিক নিহত, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা অনেকে
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা বিমান হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই নিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৩৬৫ জনে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সর্বশেষ হামলাগুলোতে আরও অন্তত ১১৩ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলমান যুদ্ধে আহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯০৫ ছাড়িয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে কিংবা রাস্তায় আটকে রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল আবারও গাজায় ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত দখলদার বাহিনীর হামলায় ২ হাজার ২৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ৫ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইসরায়েলকে সরাসরি গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালিয়েছে এবং এই ধ্বংসযজ্ঞ যেন ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ করে বিশ্ববাসীর সামনে প্রচার করেছে।”
অ্যামনেস্টির বিশ্লেষণে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, ধ্বংস ও হতাহতের যেসব ভিডিও এবং ছবি ছড়িয়ে পড়ছে, তা প্রমাণ করে যে এই আক্রমণ শুধু সামরিক নয় বরং এটি একটি ‘মনের খেলা’—যেখানে ভয়, বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়ানোই মূল লক্ষ্য। সংস্থাটি মনে করে, এই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের পূর্ণ দায় ইসরায়েলের ওপর বর্তায়।
গাজায় চলমান এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এখনও কার্যকর যুদ্ধবিরতির কোনো উদ্যোগ সফল হয়নি।