নেতানিয়াহু ইসরায়েলের শত্রু, তাকে বন্দি করা উচিত: সাবেক সেনাপ্রধান
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। টানা প্রায় ১৮ মাস ধরে চলা এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৫১ হাজার ফিলিস্তিনি। হামলার পাশাপাশি গাজায় চলছে কঠোর অবরোধও।
এমন প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান ড্যান হালুৎজ প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে “ইসরায়েলের শত্রু” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, নেতানিয়াহুকে বন্দি করে কারাগারে পাঠানো উচিত।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাতে এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানায়।
সংস্থাটি জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান ড্যান হালুৎজ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “একজন শত্রু যিনি ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি এবং তার নাম বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শত্রুকে দমন করা উচিত, অথবা তাকে বন্দি করা উচিত; তবে হত্যা করা উচিত নয়।”
ড্যান হালুৎজ ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি হালুৎজের এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “এটি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ভয়ানক উসকানি এবং চরম বামপন্থিদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর হত্যার সুযোগ করে দেবে।”
দলটি আরও বলেছে, “আইডিএফ ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যর্থ চিফ অব স্টাফ হালুৎজ, যিনি এখন প্রধানমন্ত্রীকে শত্রু হিসেবে অভিহিত করছেন এবং বলছেন তাকে বন্দি করা উচিত — এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার চেয়ে অনেক বেশি কিছু।”
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইসরায়েলি সেনা ও সাবেক সেনাদের একটি বড় অংশ গাজায় আটক বন্দিদের মুক্তি এবং চলমান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আন্দোলনে নামছেন।
গত ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল গাজায় সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল। তবে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে হামাসের সঙ্গে মতানৈক্যের জেরে ইসরায়েল আবারও গাজায় বিমান হামলা শুরু করে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন দফার ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১,৬১৩ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন আরও ৪,২০০ জনের বেশি। এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ভূখণ্ডটির ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) গণহত্যার অভিযোগেও অভিযুক্ত হয়েছে ইসরায়েল।